হাওজা নিউজ এজেন্সি রিপোর্ট অনুযায়ী, ইতিহাসের প্রতিটি যুগে সত্য ও ন্যায়ের জন্য কিছু মানুষ তাঁদের জীবন উৎসর্গ করেছেন। কিন্তু কারবালার ময়দানে ইমাম হুসাইন (আ.) ও তাঁর সঙ্গীদের ত্যাগ ইতিহাসে এক অনন্য উদাহরণ হয়ে আছে। এই ত্যাগ ও সংগ্রামের স্মৃতি প্রতি বছর আরবাঈনে নতুন করে জাগ্রত হয়, যখন কোটি কোটি মানুষ হৃদয়ে বয়ে আনে ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়ানোর অঙ্গীকার।
আজকের এই অস্থির পৃথিবীতে, যেখানে ভোগবাদ, অবিচার ও নৈতিক অবক্ষয় দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে, সেখানে যুবসমাজই হতে পারে আরবাঈনের প্রকৃত দূত। কারণ তারা শুধু উদ্যমী নয়, আধুনিক প্রযুক্তি ও সৃজনশীলতার মাধ্যমে বার্তাকে বহুদূর পৌঁছে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে।
এই সাক্ষাৎকারে আমরা কথা বলেছি হুজ্জাতুল ইসলাম মাওলানা তাফাজ্জুল হোসেনের সাথে, যিনি দীর্ঘদিন ধরে ধর্মীয় শিক্ষা ও সামাজিক নেতৃত্বের মাধ্যমে সমাজকে দিকনির্দেশনা দিয়ে আসছেন। তাঁর বিশ্লেষণ ও পরামর্শ আমাদের সামনে উন্মোচন করবে—কিভাবে যুবসমাজ আরবাঈনের চেতনাকে সংরক্ষণ করতে পারে এবং বিশ্বজুড়ে তা কার্যকরভাবে প্রচার করতে পারে।
বিশেষ সাক্ষাৎকার
প্রশ্ন: আসসালামু আলাইকুম, মাওলানা সাহেব। প্রথমেই আপনাকে ধন্যবাদ এই সাক্ষাৎকারের জন্য সময় দেওয়ার জন্য।
মাওলানা তাফাজ্জুল হোসেন: ওয়ালাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ। আপনাকেও ধন্যবাদ। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
প্রশ্ন: আমাদের আলোচনার মূল বিষয় “যুবসমাজের ভূমিকা আরবাঈনের বার্তাকে সংরক্ষণ ও কার্যকরভাবে প্রচারে”। প্রথমেই জানতে চাই, আপনি আরবাঈনের বার্তাকে কিভাবে সংজ্ঞায়িত করবেন?
মাওলানা: আরবাঈন কেবল একটি স্মরণ দিবস নয়, বরং এটি সত্য ও ন্যায়ের জন্য ত্যাগ, ধৈর্য ও ঈমানদারির চিরন্তন প্রতীক। ইমাম হুসাইন (আ.)-এর কুরবানির মাধ্যমে যে বার্তা এসেছে, তা হল—অন্যায়ের বিরুদ্ধে দৃঢ়ভাবে দাঁড়ানো, মানবতার সুরক্ষা, এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য জীবন উৎসর্গ করা।
প্রশ্ন: এই বার্তা যুবসমাজের জন্য কতটা প্রাসঙ্গিক বলে আপনি মনে করেন?
মাওলানা: যুবসমাজ জাতির প্রাণশক্তি। তারা যদি আরবাঈনের প্রকৃত চেতনাকে গ্রহণ করে, তাহলে সমাজে নৈতিকতা, ন্যায়বিচার ও ঐক্যের ধারা জোরদার হবে। আজকের দুনিয়ায় যেখানে বিভ্রান্তি ও অপসংস্কৃতি ছড়িয়ে পড়ছে, সেখানে যুবক-যুবতীরা ইমাম হুসাইন (আ.)-এর আদর্শ থেকে দিকনির্দেশনা পেতে পারে।
প্রশ্ন: যুবসমাজ কীভাবে আরবাঈনের বার্তা সংরক্ষণ করতে পারে?
মাওলানা: প্রথমত, তাদেরকে ইমাম হুসাইন (আ.)-এর জীবন ও কুরবানির ইতিহাস অধ্যয়ন করতে হবে। দ্বিতীয়ত, মজলিস, সেমিনার, আলোচনা সভা ইত্যাদিতে অংশগ্রহণ করতে হবে। তৃতীয়ত, নিজেদের চরিত্র ও জীবনযাপনকে সেই আদর্শের সাথে মিলিয়ে চলতে হবে। বার্তাকে সংরক্ষণ মানে শুধু ইতিহাস মনে রাখা নয়, বরং তা জীবনে বাস্তবায়ন করা।
প্রশ্ন: প্রচারের ক্ষেত্রে যুবসমাজের কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া উচিত বলে আপনি মনে করেন?
মাওলানা: আজকের যুগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম (Social Media) অত্যন্ত শক্তিশালী একটি মাধ্যম। যুবকরা ভিডিও, পোস্ট, আর্টিকেল, ইনফোগ্রাফিক, এমনকি মার্সিয়া বা কবিতার মাধ্যমেও আরবাঈনের বার্তা বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দিতে পারে। এছাড়া তারা স্থানীয়ভাবে সচেতনতা ক্যাম্পেইন, রক্তদান কর্মসূচি, দরিদ্রদের সাহায্য ইত্যাদি আয়োজনের মাধ্যমে বার্তাকে জীবন্ত রাখতে পারে।
প্রশ্ন: কিছু মানুষ মনে করেন, এই বার্তা শুধু ধর্মীয় গণ্ডির মধ্যেই সীমাবদ্ধ। আপনি কী বলবেন?
মাওলানা: আমি মনে করি, আরবাঈনের বার্তা কেবল মুসলিমদের জন্য নয়, বরং সমগ্র মানবজাতির জন্য। ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়ানো, অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই করা, মানুষের সেবা করা—এসবই সার্বজনীন মূল্যবোধ। তাই যুবসমাজের উচিত এই সার্বজনীনতাকে সামনে রেখে বার্তাকে প্রচার করা।
প্রশ্ন: শেষ প্রশ্ন—আপনি যুবসমাজকে কী বার্তা দিতে চান?
মাওলানা: প্রিয় তরুণেরা, তোমরাই ভবিষ্যতের নির্মাতা। তোমাদের কণ্ঠ, তোমাদের সৃজনশীলতা, তোমাদের প্রযুক্তি জ্ঞান—সবকিছু ব্যবহার করো সত্য ও ন্যায়ের পথে। ইমাম হুসাইন (আ.)-এর আরবাঈনের বার্তা হৃদয়ে ধারণ করো, তা তোমার জীবনধারায় প্রতিফলিত করো এবং বিশ্বে তা পৌঁছে দাও।
সাক্ষাৎকার গ্রহণ: মজিদুল ইসলাম শাহ
আপনার কমেন্ট